মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
মুনাফায় কাঁচি, এবার সঞ্চয়কারীদের মাথায় হাত!
অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন পাঁচটি জনপ্রিয় সঞ্চয় প্রকল্পের মুনাফার হার কমিয়ে চমক দিয়েছে সরকার। নতুন হার অনুযায়ী স্কিমভেদে সর্বোচ্চ মুনাফা ১১.৮২% থেকে ১১.৯৮%-এর মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আজ মঙ্গলবার, ১ জুলাই থেকে কার্যকর।
এর আগে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সর্বোচ্চ মুনাফা ছিল ১২.২৫% থেকে ১২.৫৫% পর্যন্ত। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় মুনাফা কমানোর এই সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশে সোমবার (৩০ জুন) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। এতে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. মোবারক হোসেন।
যে পাঁচটি স্কিমের হার কমানো হয়েছে সেগুলো হলো—পরিবার সঞ্চয়পত্র, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক মেয়াদি হিসাব।
আগের মতো এবারও বিনিয়োগকারীদের দুই স্তরে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম স্তরে ৭.৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগকারীরা এবং দ্বিতীয় স্তরে তার বেশি।
তবে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের আওতায় থাকা চারটি প্রকল্পে মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সেগুলো হলো—ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাব।
কোন সঞ্চয়পত্রে কত মুনাফা:
🔹 বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র (৫ বছর):
৭.৫ লাখ টাকার কম ও বেশি—উভয়ের জন্য এখন ১১.৮৩% (আগে ১২.৪০% ও ১২.৩৭%)। তবে প্রথম ৪ বছরে ধাপে কমে আসবে।
🔹 তিন মাস অন্তর সঞ্চয়পত্র (৩ বছর):
কম বিনিয়োগে ১১.৮২% (আগে ১২.৩০%), বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭% (আগে ১২.২৫%)। প্রথম দুই বছর মুনাফা তুলনামূলকভাবে কম।
🔹 পেনশনার সঞ্চয়পত্র (৫ বছর):
কম বিনিয়োগে ১১.৯৮% (আগে ১২.৫৫%), বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০% (আগে ১২.৩৭%)। মুনাফা ধাপে কমে আসবে।
🔹 পরিবার সঞ্চয়পত্র (৫ বছর):
কম বিনিয়োগে ১১.৯৩% (আগে ১২.৫০%), বেশি হলে ১১.৮০% (আগে ১২.৩৭%)।
🔹 ডাকঘর মেয়াদি হিসাব (৩ বছর):
কম বিনিয়োগে ১১.৮২% (আগে ১২.৩০%), বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭% (আগে ১২.২৫%)।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সুদহারের চলমান পতন এবং আর্থিক খাতের ভারসাম্য রক্ষা করতে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এতে করে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ও স্বল্প আয়ের মানুষ চাপে পড়তে পারেন।
গণমাধ্যম সূত্র বলছে, বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ আকর্ষণ হারানোর শঙ্কায় এখন অনেকেই বিকল্প খুঁজছেন। এতে সঞ্চয় খাতে দীর্ঘমেয়াদি আঘাত আসার আশঙ্কাও অস্বীকার করা যাচ্ছে না।